ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানীযোগ্য পশুর দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা 


আসছে ঈদুল আজহা। ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশুর হাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলেছে, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোরবানির পশুর হাট বসবে; কিন্তু যারা কোরবানি পশু কিনবেন সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণি কি কোরবানি দিতে পারবেন? না পারলে এর প্রভাব পড়বে পশুর খামারি-ব্যাপারীদের ওপর। দুশ্চিন্তা এবার পশুর দাম পাবে তো?

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) জেলার কোরবানিযোগ্য পশুর তথ্য পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল উপজেলার থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কোরবানিযোগ্য পশু আছে ১ লক্ষ ২ হাজার ২৭৪ টি। এর মধ্যে গরু-মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পশুর সংখ্যা আলাদা করেনি অধিদপ্তর। আগামী সপ্তাহ পুরো প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানান, গত বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৫ হাজার এবার ১ লক্ষ ২ হাজার ২৭৪ টি। জেলায় পর্যাপ্ত পশু আছে। তবে করোনার কারণে কোরবানির সংখ্যা একটু কমে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ড. মোঃ আবু সাঈদ বলেন, গত দুই-তিন বছর থেকে আমাদের কোরবানির পশু অন্য দেশ থেকে আনতে হচ্ছে না। গত বছরও ১৫ হাজারের মতো পশু অবিক্রীত ছিল। এর মানে আমরা গবাদি পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। এবারও পশু চাহিদার চেয়ে বেশিই আছে।

তিনি আরো বলেন, পশু কিভাবে বিক্রি হবে সেটা ঠিক করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের । আমরা ঠিক করা হাটে গবাদি পশুর স্বাস্থ্যজনিত চিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকি। এবার এর হার বাড়ানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরু বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ পশু কোরবানি ও জীবন রক্ষা দুটিই জরুরি। আশা করি সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়টি মাথায় নিয়েই কাজ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার কারণে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব চলছে। বিপাকে পড়ছেন দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যারা কয়েকজন মিলে (শেয়ার) কোরবানি দেন। করোনার কারণে এ শ্রেণির সবচেয়ে বিপাকে থাকায় অনেকেই চলতি বছর কোরবানি দিতে পারবেন না। এতে কোরবানির পশু বিক্রি কমে যেতে পারে। এতে পর্যাপ্ত গরু থাকার পরও দাম পাবেন না খামারিরা। এমন উদ্বেগের মধ্যে কোরবানিযোগ্য পশু নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছে দেশের গরু খামারি, প্রান্তিকপর্যায়ের কৃষক। যদিও ভারতের গরুর আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর থেকে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ উলেস্নখযোগ্য হারে কমে গেছে। আগে প্রতি বছর হাজার খানেক ভারতীয় গরু আসত। গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানিযোগ্য —— গরু-মহিষ, —- লাখ ছাগল-ভেড়া এবং পশুর কোরবানি হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহায় লক্ষাধিক পশুর কোরবানি হতে পারে।

এদিকে ঈদুল আজহার পশুর সংখ্যা নিরূপণ, কোরবানির হাটবাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশুর ক্রয়-বিক্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা, করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে।

এদিকে কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পশু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। কারণ মহামারি করোনায় প্রকোপ এখনো কমেনি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বরং আরও দিন দিন আরো বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় খামারিরা পশু বাজারে নিতে পারবেন কিনা, বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা, ক্রেতা মিললেও দাম সঠিক পাবেন কিনা এসব বিষয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কে রয়েছেন দেশের পশু খামারিরা।

এ ব্যাপারে বিসমিল্লাহ এগ্রো খামার লি: ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, খামারে সারাবছর গরু মোটাতাজাকরণ করে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। এবার ১০০ টি বড়. মাঝারি সাইজের গরু বিক্রি করব; কিন্তু করোনার কারণে এ গরুগুলো ভালো দাম পাবো কিনা এখনো জানি না। দাম কমে গেলে আমার প্রচুর ক্ষতি হবে।

জেলা শহরের খামার মালিক সমিতির —— বলেন, এত টাকা বিনিয়োগ করে যদি কোরবানির ঈদে গরুর দাম ভালো না পাই তাহলে আমাদের খামারিদের দুঃখের সীমা থাকবে না। গরু পালন করতে গিয়ে অনেকে লোন হয়েছে। ধারদেনা করে কোরবানির আশায় গরু পালন করেছি। করোনার বর্তমান অবস্থায় এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.বি.এম সাইফুজ্জামান বলেন, ঈদের আগে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হলে কোরবানির পশুর ওপর একটা প্রভাব তো পড়বেই। তারপরও ভারত থেকে কোনো পশু আসবে না এটা খামারিতে জন্য সুখবর।