লাইফস্টাইল

নার্ভাস ব্রেকডাউনঃ মনের অসুখ অতঃপর মস্তিষ্ক শক্তি হ্রাস

  • 5
    Shares

নার্ভাস ব্রেকডাউন প্রকৃতপক্ষে মেডিক্যাল টার্ম বা মানসিক অসুস্থতা নয়। এটি এমন একটি অসুখ রোগীকে ধীরে ধীরে বিষন্নতা বা অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়। রোগী নিজেও বুঝতে পারে না সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। এটি উদ্বেগ কিংবা বিষন্নতার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এর শারীরিক বা মানসিক লক্ষনগুলো স্পষ্ট নয় বলে রোগ নির্ধারণ করা কঠিন।

অত্যধিক স্ট্রেস বা স্নায়ুবিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকলে মস্তিষ্কের শক্তি হ্রাস করে এবং ব্রেইনপাওয়ার ক্ষমতা নষ্ট করে। ইউনির্ভাসিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের মতে, চরম স্ট্রেসের ক্ষেএে অত্যধিক পরিমাণ স্ট্রেস হরমোন করটিসল মেমোরি বা স্মৃতিশক্তির ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

এর কারনে ব্যক্তিগত জীবনে শরীর ও মনে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব পড়েঃ-
১.মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।
২.অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করা।
৩.হজমে সমস্যা হওয়া ও পাকস্থলীর পীড়া হয়।
৪. কোনো কিছুতে অত্যধিক স্ট্রেস নেওয়া।
৫.প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা করা অর্থাৎ খারাপ কিছু হবে এমন হওয়া।

এটি কোন রোগ নয়। তবে সাময়িক সময়ের মানসিক অসুস্থতা। অস্থিরতা,ভয়, হতাশা, কোনো কিছু না পাওয়ার কষ্ট ইত্যাদি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিলে নার্ভাস ব্রেকডাউন দেখা দেয়। এর অত্যধিক প্রবনতা অনিদ্রা, ডিপ্রেশনের মতো জটিল সমস্যা সৃষ্টি করে।

এর লক্ষন গুলো শারীরিক বা মানসিক এমনকি অনুভূতি সংক্রান্তও হতে পারেঃ-
দ্রুত হার্টবিট, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, মনোযোগের অভাব, ক্ষুধামন্দ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লক্ষন।

অযৌক্তিক ভয় এবং প্যানিক অ্যাটাকের কারনেও এটি হয়। এর অতি দ্রুত বিস্তারের ফলে রোগী অনেক সময় ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়। মানসিক রোগকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। নিউরোটিক এবং সাইকোটিক। নিউরোটিক বলতে আমরা টেনশন, উদ্বেগ, হিস্টিরিয়া, অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব ইন্টারনেট আসক্তি বা ঘুমের সমস্যা কেই বুঝি। সাইকোটিক বা গুরুতর মানসিক রোগ, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার এ মাএ ১% মানুষ ভোগে।

কথিত আছে, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ও এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গবেষণার শেষ দিকে তার এ রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে এর থেকে মুক্তির উপায়ও আছে।
১.রোগীকে মানসিকভাবে সাপোর্ট করতে হবে।
২.ইচ্ছে না হলেও ভালো লাগার কাজ গুলো করতে হবে।
৩. একাকীত্ব থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪.মানসিক অস্থিরতা দূর করতে নিজেকে একটু সময় দিতে হবে।
৫.শরীরের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৬.পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নিতে হবে।
৭.প্রতিদিন ২০ মিনিটের মত মেডিটেশন করতে হবে।

এ ধরনের রোগী নিজেও বুঝতে পারে না তাদের সমস্যা গুলো কি? তাই আশেপাশের যে কেউ বিষন্নতা বা একাকীত্বে ভুগলে তার ভাললাগার কাজ গুলো করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।


  • 5
    Shares