পটুয়াখালী

গলাচিপার চরবাংলা খাসজমি ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে একসনা লিজ প্রদানের দাবি


মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক গলাচিপা উপজেলার চরবাংলা কৃষি খাসজমি চরবাংলার ভূমিহীন কৃষকদের নামে একসনা ডিসিআর প্রদানের দাবি জানিয়েছে চরবাংলা বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতি লিঃ। আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ইং মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে চরবাংলা বিত্তহীন সমবায় সমিতির পক্ষ হতে নিম্নোক্ত দাবী সমুহ প্রশাসনকে মেনে নেয়ার জন্য তুলে ধরা হয়-
১. মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক গলাচিপা উপজেলার চর বাংলা কৃষি খাসজমি একসনা ডিসিআর প্রদান করতে হবে।
২. ভুয়া বন্দোবস্ত বাতিল করতে হবে।
৩. অসাধু কর্মকর্তা সার্ভেয়ার কামরুল ইসলামকে অপসারণ করতে হবে।
৪. দিয়ারা জরিপ করে ছাপানো ম্যাপের ভিত্তিতে খাসজমিতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দিতে হবে।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, চরবাংলা হচ্ছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপার অন্তর্গত একটি খাসচর। এ চরে গত ২৭ বছর ধরে আমরা চরবাংলা বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যরা বসতভিটা তৈরী করে ও জমি চাষাবাদ করে সন্তান-সন্ততি নিয়ে বসবাস করে আসছি। চরটিতে দীর্ঘবছর দখল অবস্থান করলেও স্থানীয় প্রশাসনের কায়েমী স্বার্থ ও দালাল-জোতদার-লাঠিয়ালদের দৌরাত্ম্যে আমরা সর্বদা দিশাহারা। তাদের নানাবিধ ষড়যন্ত্রের কারনে মৌশুমের ফসল আমরা কখনই নিরাপদে ঘরে তুলতে পারিনি। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ষড়যন্ত্রে প্রতি বছরই ধানী ফসল লুটপাটের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে বঞ্চিত হই আমরা চরে বসবাসরত প্রকৃত ভূমিহীনরা। এ বছরও চরের ধান নিয়ে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এ ধরনের তুঘলকি কান্ড চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে চরের ধান কাটা নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি করা ও তাকে কেন্দ্র করে ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা। অথচ মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে অত্র খাসজমিতে ভূমিহীনদের মাঝে একসনা ইজারা ও বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ কুমার দাস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা সার্ভেয়ার কামরুল ইসলামের সহযোগিতায় মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে তাদের মনমত ইজারা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। প্রশাসনের তালবাহানার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আমরা আদালত অবমাননার মামলা পর্যন্ত করতে বাধ্য হই। তদুপরি তারা কুটিলতার আশ্রয় নিয়ে চরবাংলা বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সদস্যদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা সমিতির সাথে যথাযথ কোন আলোচনা না করে নিজেদের খামখেয়ালি মত কাজ করছেন। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং-৩৮৩/২০১৭ইং, রায়ের তারিখ: ৮/১১/২০১৮। আদালত অবমাননা মামলা নং-২৮৭/২০২০, রায়ের তারিখ: ২৩/৯/২০২০ইং।

তারা আরো বলেন, আমরা চাই চরবাংলায় শান্তি বিরাজ করুক এবং ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধি অনুসরণ করা হউক। উল্লেখ যে গত ২ সেপ্টেম্বর ভূমিহীনদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। একই দিনে কৃষি জমি চাষ করার জন্য চাষীদের তালিকা নেয়া হয়। ৩ সেপ্টেম্বর চর পরিদর্শনের যে সিদান্তসমূহ তা বাস্তবায়ন করলে পরিস্থিতি এখনকার মত জটিল হত না। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং গলাচিপা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার কামরুল ইসলামসহ ৪ জন তহশিলদার সরেজমিনে গিয়ে চরে অবস্থানরত ভূমিহীন কৃষকদের তাদের দখলে থাকা জমি চাষে দিয়ে আসবে। সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম এর ষড়যন্ত্রের ভূমিহীন চাষীরা তাদের জমি চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হয়। এলাকায় প্রচার আছে যে, সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম ভূয়া বন্দোবস্তকারী, ভূমি দালাল ও জোতদারদের নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচ এর বিনিময়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে কতিপয় সিদ্ধান্ত এখানে তুলে ধরা হল।
-চরে বসবাসরত সকল ভূমিহীনরা কৃষি খাস জমি চাষাবাদ করবে।
-চরে অবস্থানরত ভূমিহীনদের অগ্রধিকারের ভিত্তিতে বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণ করবেন।
-জরিপ এবং ম্যাপ করার পরই বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
-ভুয়া ও অবৈধভাবে বন্দোবস্তকারীদের বিরুদ্ধে ভূমিহীনরা অভিযোগ করে কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করবে।
-চরে বসবাসরত সকল ভূমিহীনরা আজ থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
-কোন ভূমিহীন জোতদারদের কোন কাজে সহযোগিতা করবে না।
-৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, স্থানীয় ভূমি অফিসে প্রস্তাবিত ভূমিহীনদের তালিকা ভূমিহীন নেতারা যাচাই-বাছাই করবে।
-গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ইং চর বাংলার বিত্তহীন ভূমিহীন কৃষক সদস্যরা একসা ডি সি আর এর জন্য প্রায় ৮০০ শত আবেদন করে। কিন্তু প্রশাসন কোন ভূমিহীনদের একসনা লিজ দেয়নি। সরকারী বিধিমোতাবেক খাসজমি লিজ প্রদান করলে সরকারের রাজস্ব আয় হতো।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভূমিহীন সদস্যরা হলেন মোঃ সেরাজ খাঁ, হারুন হাওলাদার, মজিবর হাওলাদার, ফারুক মীর, মোঃ জাহাঙ্গীর মুন্সি, সামছুল হক পেদা, মোঃ সোহরাব খাঁ, মোঃ দুলাল মৃধা, মোঃ নাসির তালুকদার, মোঃ ইসমাঈল মোল্লা, সখিনা বেগম, ইনাররা বেগম, রহিমা বেগম, জয়নব বিবি, রেখা বেগম প্রমুখ।