ক্যাম্পাস

কুবিতে স্নাতক পর্যায়ে ১৯ টি বিভাগের ১২ টিতেই পরীক্ষা বন্ধ, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সর্বশেষ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুসারে ৬ সেপ্টেম্বর স্নাতক ৪র্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। তাতে দেখা যায় একই ব্যাচে পড়া সত্ত্বেও সমানতালে পরীক্ষায় বসতে পারেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

এই শিক্ষাবর্ষের ৭ টি ডিপার্টমেন্টের ৭ম ও ৮ম সেমিস্টার ফাইনালের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ থেকে ২২ তারিখের মাঝে। যেখানে একই ব্যাচের ১২ টি ডিপার্টমেন্ট করোনার কারণে পিছিয়ে থাকায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়নি।

তবে শুধু তারাই নন, এই রুটিনে প্রাধান্য পায়নি করোনার কারণে গত প্রায় দেড় বছরে একটি পরীক্ষাও দিতে না পারা শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বারবার পরীক্ষায় এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাই প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে হঠাৎ হঠাৎ পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কেবল পিছিয়েই পড়ছেন৷ আবার এসব শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে পরীক্ষার অনুমতি থাকলেও সেটাতেও নেই অগ্রগতি।

এ ব্যাপারে লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার শ্রাবণী বলেন, দেড় বছরে এক সেমিস্টারও উত্তীর্ণ হতে পারিনি। যতবারই পরীক্ষার কথা হয়েছে, প্রতিবারই চতুর্থ বর্ষ ফাইনাল বা মাস্টার্সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ১ম বর্ষের কথা ভাবাই হচ্ছে না। যখনই আমাদের পরীক্ষা নেওয়ার কথা এসেছে তখনই করোনার দোহাই দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।

ফার্মেসী বিভাগের ১১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আশরাফুল হক বলেন, ‘১১ তম ব্যচের কারো কারো যেখানে ৫ম ও ৬ষ্ঠ সেমিস্টার শেষ করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে একই ব্যাচের ৭ম ও ৮ম সেমিস্টার পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের বুকে ছুরিঘাত ছাড়া কিছুই নয়। এ যেন তেলা মাথায় তেল ঢালা, রুক্ষ মাথায় বেল ভাঙা।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নয়ন মিয়া বলেন, দুইবার পরীক্ষা দিতে আসলেও পরীক্ষা শেষ করতে পারি নাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাস্টার্স ও ৪র্থ বর্ষের সশরীরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এখন যেহেতু করোনা প্রাদুর্ভাব নিম্নগামী আর অনেকেই ভ্যাক্সিন গ্রহণ করে ফেলছে, তাই প্রশসানের নিকট দাবি থাকবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ব্যাচ গুলোর পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা। অনলাইন এক্সামের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে অনেকেই অনলাইনেও এক্সামের আগ্রহী হত।

তবে অনলাইন পরীক্ষা ও অন্যান্য ব্যাচের পরীক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, আমরা অনার্স এবং মাস্টার্স পরীক্ষার আওতায় এনেছি। বাকি সব ব্যাচ যদি ইচ্ছা করে তারাও অনলাইনে নিতে পারে। সেটা না হলে চলমান পরীক্ষা শেষ হলে বাকীদেরও পরীক্ষা নিয়ে নিব। সকল শিক্ষকদের অনলাইন পরীক্ষার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডিনদের নেতৃত্বে অনলাইন পরীক্ষার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের সামর্থ্য বুঝে আমরা শিক্ষকেরা এ বিষয়ে চেষ্টা করবো।