ক্রিকেটখেলাধুলা

বিশ্বকাপের পর নেতৃত্ব ছাড়ছেন কোহলি


বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন কোহলি। তবে টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন তিনি।

তিন সংস্করণের খেলোয়াড় হিসেবে কাজের চাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই কোহলি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি, সচিব জয় শাহ এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। অনেক চিন্তাভাবনা করে ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে জানান কোহলি।

বিসিসিআই অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। সব ঠিক থাকলে হয়তো টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক হবেন রোহিত শর্মা। কোহলি চোটে বা বিশ্রামে থাকার সময় ভারতকে ১৯টি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ওপেনার।
রঙিন পোশাকে ভারতের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ডাক গত দুই বছর ধরেই। সাদা বলের ক্রিকেটে রোহিতের অধিনাকত্বের সাফল্য আর কোহলির ট্রফি খরা মিলিয়ে চলছিল এই আলোচনা। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়ার গত সোমবারের প্রতিবেদন এই আলোচনায় যোগ করে নতুন মাত্রা।

বিসিসিআই সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, অক্টোবর-নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সীমিত ওভারের নেতৃত্ব ছাড়ার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন কোহলি। তার জায়গায় অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন রোহিত।

নিজের চাওয়া নিয়ে রোহিত ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কোহলি লম্বা আলোচনা করেছেন বলেও দাবি করে পত্রিকাটি। তবে ওইদিনই ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপে কোহলি ও রোহিতের মধ্যে অধিনায়কত্ব ভাগাভাগির খবরটি উড়িযে দেন বিসিসিআই সচিব জয় শাহ।

এবার কোহলি নিজেই জানিয়ে দিলেন এক সংস্করণের অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণার আট দিন পরই এলো তার এই ঘোষণা।

“কাজের চাপ কতটুকু নেওয়া উচিত, সেটা বুঝতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। গত ৮-৯ বছর ধরে তিন সংস্করণে খেলা এবং ৫-৬ বছর ধরে নিয়মিত অধিনায়কত্ব করার কারণে যে রকম কাজের চাপ নিতে হয়েছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে ভারতীয় দলকে টেস্ট ও ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি থাকতে নিজেকে কিছুটা ছাড় দেওয়া উচিত।”

“যতদিন ধরে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক আছি, পুরোটা সময়েই আমি নিজের সবটুকু দিয়েছি দলকে এবং টি-টোয়েন্টি দলের একজন ব্যাটসম্যান হিসেবেও তাই করে যাব।”

সিদ্ধান্তটি নিতে কাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সেটাও বললেন কোহলি।

“অবশ্যই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগেছে। আমার কাছের মানুষ, রবি ভাই (কোচ রবি শাস্ত্রী) এবং রোহিত যে কিনা দলের নেতৃত্ব দেওয়া গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সবার সঙ্গে অনেক সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা ও আলোচনার পর অক্টোবরে দুবাইয়ে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।”

২০১৭ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনি সরে দাঁড়ানোর পর টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে আসেন কোহলি। এই সংস্করণে এখন পর্যন্ত ভারতকে ৪৫ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি; যার মধ্যে জয় ২৭টি, হার ১৪টি, দুটি ম্যাচ টাই হয়।

অধিনায়ক হিসেবে ৪৮.৪৫ গড়ে তিনি করেছেন ১৫০২ রান। স্ট্রাইক রেট ১৪৩.১৮। ফিফটি আছে ১২টি, এর মধ্যে আছে হায়দরাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০৮ রান তাড়ায় অপরাজিত ৯৪ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস।

২০১৭ সালের শুরু থেকে সব দেশ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান কোহলির। আর ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৪৮.৯৫ স্ট্রাইক রেটে ১৫০০ রান করে তার পরেই আছেন রোহিত।

ভারতের সম্ভাব্য নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রোহিত আইপিএলের সফলতম অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে ৫টি আইপিএল শিরোপা জিতেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আর কোহলির চোট-বিশ্রামে নানা সময়ে জাতীয় দলের নেতৃত্বেও রোহিত পেয়েছেন সাফল্য। তার নেতৃত্বে ২০১৮ নিদাহাস ট্রফি ও এশিয়া কাপ জয় করে ভারত। কিন্তু কোহলির নেতৃত্বে এখনও ধরা দেয়নি কোনো ট্রফি। আরেকটি সুযোগ অবশ্য তিনি পাচ্ছেন আসছে বিশ্বকাপে।