চট্টগ্রামচট্টগ্রাম বিভাগদেশজুড়ে

কর্ণফুলী টানেল শেষে এখন যানজট নিয়ে পরিকল্পনা


বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেলের নির্মাণকাজ প্রায় তিন চতুর্থাংশ শেষ হওয়ার পর দুই প্রান্তের সম্ভাব্য যানজট নিরসনে নতুন করে পরিকল্পনা করতে বসেছে কর্তৃপক্ষ।

টানেল চালুর ১০ বছর পর দুই প্রান্তে যানজটের সমস্যা হবে বলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সতর্কবার্তা পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে সেতু বিভাগ।

অদূর ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বিবেচনায় টানেলসহ সংশ্লিষ্ট সড়ক অবকাঠামোকে আগামী ১০০ বছরের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, এই পরিকল্পনা কমিটির বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। তাতে এপ্রোচ রোডসহ টানেলের আশপাশের রাস্তা এমনভাবে তৈরি করা পরামর্শ দিয়েছেন সবাই, যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয়।

কর্ণফুলী নদীর দুইপাড়ে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তুলতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। নদীর দক্ষিণে আনোয়ারায় রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইপিজেড, সিইউএফএল, পারকি সমুদ্র সৈকত। কর্ণফুলী পেরিয়ে আনোয়ারা দিয়েই কক্সবাজার, বাঁশখালী ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরে যেতে হয়।

টানেলের উত্তর প্রান্ত বা শহরের দিক থেকে ৫টি সড়ক দিয়ে টানেলে যাওয়া যাবে- আউটার রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কাঠগড় সড়ক, এয়ারপোর্ট সড়ক এবং পতেঙ্গা বিচ সড়ক দিয়ে টানেল সড়কে গিয়ে প্রবেশপথ। এই সড়কগুলো দিয়ে টানেলমুখী যানবাহনের চাপ থেকে যানজট হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সেই চাপ সামাল দেওয়াসহ আগামী ১০০ বছরের জন্য যানবাহন চলাচলে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো তৈরির জন্য ‘আলাদা পরিকল্পনা’ করা হচ্ছে।

টানেলের উত্তরপ্রান্তে বা চট্টগ্রাম শহরের অংশের প্রয়োজনীয় সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং দক্ষিণ প্রান্তে বা আনোয়ারা অংশের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিকল্পনার জন্য সেতু বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু কর্তৃপক্ষ, নির্মাণকারী সংস্থা চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসিএল) ও অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনার্স হংকং লিমিটেড যৌথভাবে টানেল নির্মাণের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করেছিল।

টানেল চালুর ১০ বছর পর যানবাহন ব্যবস্থাপনার রূপরেখা কী হবে সেবিষয়টি এই সমীক্ষায় রাখা হয়নি বলে জানান সেতু সচিব। আর তাই নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে সেতু কর্তৃপক্ষকে।

চালুর বছরে টানেল দিয়ে ৬৩ লাখ গাড়ি এবং কক্সবাজারের গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো চালুর পর ২০৩০ সাল থেকে বছরে এককোটি ৩৯ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারে বলে ওই সমীক্ষায় ধারণা দেওয়া হয়েছে। এর ৫০ শতাংশই পণ্যবাহী গাড়ি।